রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বদলির এ আদেশ দেয়া হয়।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাসেল মোল্লা নামের এক বাহরাইন প্রবাসীর কাছ থেকে খবিরুল আলমের টাকা গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেক মোহাম্মদ জালালুর রহমান তাকে শোকজ করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলেন। ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার তিনি শোকজের জবাব জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওইদিনই এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরন করেন।
এ নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার যুগান্তরে "আমার ওপর তো আপনি বেজার না, গোয়ালন্দে নির্বাচন কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহনের ভিডিও ভাইরাল" -- শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমকে একাধিকবার চেষ্টার পর ফোনে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারবো না।
রাজবাড়ী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেক মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, "মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আমি গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের শোকজের জবাবসহ প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাই। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসে বদলি করা হয়। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আরো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।"
জানা গেছে , বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নতুন ভোটার আইডি কার্ডের জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন অফিসে যান বাহারাইন প্রবাসী উপজেলার উজানচরের বাসিন্দা রাসেল মোল্লা। এ সময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম কাজ করে দেয়ার জন্য ৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। এ সময় অনেক কাকুতি মিনতি করে তাকে দুই হাজার টাকা দেন। এ সময় তিনি কৌশলে টাকা প্রদানের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেন।
বাহারাইন প্রবাসী রাসেল মোল্লা বলেন, আমি ব্রেন টিউমারে অসুস্থ ছিলাম। নির্বাচন কর্মকর্তাকে বলার পরও তিনি নানা অজুহাতে আমাকে তিন-চারদিন অফিসে ঘুরান। পরে টাকা দেওয়ার পর তিনি আমার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্ড করে দেন। তিনি বলেন, শুধু আমি নই, এ অফিসে টাকা ছাড়া কোন সেবা পাওয়া যায় না। টাকা না দিলে অফিসের অন্যরাও দুরব্যবহার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দালাল চক্রের সাথে স্থানীয় কয়েকটি কম্পিউটার দোকানদার জড়িত। এদের হাতে টাকা দিলেই মুহুর্তের মধ্যে পৌঁছে যায় নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে। নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র করে দেওয়া, আইডি কার্ডে নামের ভুল বানান সংশোধন করা, পিতা ও মাতার নাম সংশোধন করা সহ যাবতীয় কাজ খুব সহজে হয়ে যায়। একেকটি কাজে তারা সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা থেকে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, আমি জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ যাওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ভোটার আইডি করেছি। এই অফিসে কেউ টাকা ছাড়া কোন কাজ করে না।